বিপিএল ২০২৬: শান্তর রাজকীয় সেঞ্চুরি ও মুশফিকের ব্যাটে রাজশাহীর উড়ন্ত জয়
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের দ্বাদশ আসরের দ্বিতীয় দিনে রানের ফোয়ারা দেখল ক্রিকেট প্রেমীরা। ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকির আকস্মিক মৃত্যুর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে মাঠে নামে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর বিধ্বংসী সেঞ্চুরি এবং অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের দায়িত্বশীল ফিফটিতে সিলেট টাইটান্সের ১৯০ রানের পাহাড় টপকে ৮ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে রাজশাহী।
শান্তর বিধ্বংসী শতক ও মুশফিকের সঙ্গ ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাজশাহীর শুরুটা ছিল কিছুটা নড়বড়ে। পাওয়ার প্লেতে তানজিদ হাসানের উইকেট হারিয়ে ৫ ওভারে মাত্র ৩০ রান তোলে তারা। তবে ষষ্ঠ ওভারে সাইম আইয়ুবকে টানা তিনটি চার মেরে ঝড়ের আভাস দেন শান্ত। ৩৬ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন এই বাঁহাতি ওপেনার। শেষ পর্যন্ত ৫৮ বলে ১০টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ১০১ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি, যা বিপিএল ইতিহাসে তাঁর দ্বিতীয় শতক।
অন্যদিকে, অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ৩১ বলে ৫১ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলে শান্তকে যোগ্য সঙ্গ দেন। এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের ৭১ বলে ১৩০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি ম্যাচটি সিলেটের নাগালের বাইরে নিয়ে যায়। ১৯.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে রাজশাহী।
সিলেটের লড়াকু পুঁজি এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পারভেজ হোসেন ইমনের ঝড়ো ফিফটি ও আফিফ হোসেনের কার্যকরী অপরাজিত ৬৫ রানে ভর করে ৫ উইকেটে ১৯০ রান সংগ্রহ করেছিল সিলেট টাইটান্স। ইমন ২৮ বলে ৫৪ রান এবং আফিফ ১৯ বলে ৩৩ রানের ক্যামিও খেলেন। রাজশাহীর পক্ষে সন্দীপ লামিচানে ২ উইকেট নিলেও ছিলেন কিছুটা ব্যয়বহুল।
বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাতীয় জীবনের প্রতিটি সংকট ও সাফল্যের সঙ্গে ক্রীড়াঙ্গন নিবিড়ভাবে যুক্ত।
১৯৫০-এর দশক ও ১৯৫৪-এর প্রেক্ষাপট: ১৯৫০-এর দশকে যখন রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন তুঙ্গে, তখন ১৯৫৪ সালে ঢাকা স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে এ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আবহ তৈরি হয়। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের বিজয় যেমন বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করেছিল, তেমনি ক্রীড়া ক্ষেত্রেও এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল।
১৯৭০ ও ১৯৭১-এর উত্তাল সময়: ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে বাঙালির বিজয় এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্রিকেট ব্যাট ছেড়ে অনেক ক্রিকেটার হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড গঠিত হওয়ার পর ক্রিকেটের নতুন যাত্রা শুরু হয়।
১৯৯০-এর দশক ও আধুনিক ক্রিকেট: ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসলে ক্রিকেটেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয় এবং ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর পর ক্রিকেট হয়ে ওঠে বাংলাদেশের প্রাণের খেলা।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৫-এর সংস্কার: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের প্রতিটি সেক্টরে যে সংস্কার শুরু হয়েছে, তার ঢেউ লেগেছে বিসিবিতেও। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ২০২৬-এর এই বিপিএল আয়োজন নতুন বাংলাদেশের স্থায়িত্ব ও অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করে সিলেট স্টেডিয়ামে হাজারো দর্শকের উপস্থিতি প্রমাণ করে ক্রিকেটের প্রতি বাঙালির চিরন্তন ভালোবাসা। যদিও ম্যাচের শুরুতে ঢাকা ক্যাপিটালসের কোচ মাহবুব আলী জাকির মৃত্যুতে মাঠের পরিবেশ ছিল বিষাদগ্রস্ত, তবে শান্ত-মুশফিকের ব্যাটিং সেই শোককে কিছুটা হলেও আনন্দে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছে।
সূত্র: ১. বিডিনিউজ২৪ অনলাইন, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫। ২. ইএসপিএন ক্রিকইনফো ও বিপিএল অফিসিয়াল মিডিয়া সেল। ৩. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ক্রীড়া বিশেষ বুলেটিন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |